ভিসা ছাড়াই ওমরাহ করতে পারবেন বাংলাদেশিরা : সৌদি রাষ্ট্রদূত
ভিসা ছাড়াই ওমরাহ করতে পারবেন বাংলাদেশিরা : সৌদি রাষ্ট্রদূত
ভিসা ছাড়াই সৌদি আরবে গিয়ে ওমরাহ পালন করতে পারবেন বাংলাদেশি নাগরিকরা। সেক্ষেত্রে সাউদিয়া এয়ারলাইন্স বা দেশটির জাতীয় মালিকানাধীন বিমানের ট্রানজিটের যাত্রী হলে এ সুযোগ মিলবে।
মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) ঢাকার সৌদি দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ইসা বিন ইউসুফ আল-দুহাইলান।
রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের নাগরিকরা ভিসা ছাড়া সৌদি আরবে ওমরাহ পালন করতে পারবেন।
আল-দুহাইলান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও সেনজেনের ভিসা থাকলেও সৌদিতে ওমরাহ পালনে এ সুবিধা পাওয়া যাবে। এছাড়া কোনো এজেন্সির সহায়তা ছাড়াই নুসুক অ্যাপে নিবন্ধন করে যে কেউ ওমরাহ ভিসা করতে পারবেন।
সম্পর্কিত খবর
মহিলা পরিষদের মানববন্ধন
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় বহুত্ববাদ জরুরি
নিজস্ব প্রতিবেদক

এই দেশ বহু ধর্মের, বহু সংস্কৃতির ও বহু বৈচিত্র্যের। ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যালঘু হিসেবে একটি সংখ্যার মধ্যে ফেলে না দিয়ে বরং বহুত্ববাদকে ধারণ করতে হবে। দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় বহুত্ববাদ জরুরি।
মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীতে হাইকোর্টের সামনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখুন’ স্লোগান সামনে রেখে এক মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন।
মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, ‘দেশের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা হলেও কিছু মানুষের ধর্মীয় আচরণে ভিন্নতা, ধর্মীয় উগ্রতা ও ধর্মের দোহাই দিয়ে শারদ উত্সবের সময় এই উত্সবকে কেন্দ্র করে পূজামণ্ডপে হামলা ও লুটপাট চালানো হয়। যার উদ্দেশ্য ধর্মীয় নয়, বরং মন্দিরের সম্পদ লুটপাট করা।
এসব ঘৃণিত ও বিদ্বেষমূলক অপতত্পরতার বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আন্দোলনকে জোরদার করতে হবে।
অন্য বক্তারা বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর অপতত্পরতা এবং বাঙালি সংস্কৃতির ওপর যে আঘাত তার বিরুদ্ধে আমাদের এই অবস্থান। ভয়ভীতি দেখিয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জমি দখলের উদ্দেশ্যে তাদের উচ্ছেদের রাজনীতিও রয়েছে। দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন আরো জোরদার করে একটি গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, নারী-পুরুষের সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানাই আমরা।
মানববন্ধনে আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদা রেহানা বেগম, ঢাকা মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক রেহানা ইউনূস, কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড সম্পাদক রেখা সাহা, সমাজকল্যাণ সম্পাদক হুমায়রা খাতুন প্রমুখ।
আরো এক বছর মন্ত্রিপরিষদ সচিব থাকছেন মাহবুব হোসেন
নিজস্ব প্রতিবেদক

আরো এক বছর মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে থাকছেন মো. মাহবুব হোসেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব তাকে আরো এক বছরের জন্য চুক্তিতে স্বপদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ধারা ৪৯ অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেনকে তার অবসর-উত্তর ছুটি এবং তদসংশ্লিষ্ট সুবিধাদি স্থগিতের শর্তে আগামী ১৪ অক্টোবর অথবা যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছর মেয়াদে মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হলো।
চাকরির স্বাভাবিক মেয়াদ শেষ করে ১৩ অক্টোবর থেকে অবসরে যাওয়ার কথা ছিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেনের। নিয়মানুযায়ী তাঁকে অবসর দিয়ে মঙ্গলবার প্রজ্ঞাপনও জারি করেছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। পরে রাতে আরো এক বছর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
মাহবুব হোসেন গত ৩ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। তার আগে তিনি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব এবং তারও আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ১৯৮৬ (অষ্টম) ব্যাচের সদস্য মাহবুব হোসেন ১৯৮৯ সালের ২০ ডিসেম্বর সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন।
গত কয়েক বছরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব পদে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের স্বাভাবিক অবসরের মেয়াদ শেষে চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এদিকে চলতি বছর আরো কয়েকজন সচিব অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে। ফলে এসব পদে পরিবর্তন আসার কথা রয়েছে।
নিয়মানুযায়ী প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা অবসরে গেলে অবসরের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
যারা অপকর্ম করে দেশ ছেড়েছে, তারাই দেশের বিরুদ্ধে বলছে: প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক

বিদেশে অবস্থান করা কতগুলো গোষ্ঠীর লোকজন ইচ্ছাকৃতভাবে দেশের বিরুদ্ধে অপবাদ দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘এদের মধ্যে কিছু লোক আছে, যারা বিভিন্ন অপরাধ, অপকর্ম বা দুর্নীতি করে দেশ ছেড়েছে বা অবৈধ কাজের কারণে চাকরি হারিয়েছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবেই দেশের বিরুদ্ধে অপবাদ ছড়াচ্ছে।’
গতকাল মঙ্গলবার লন্ডনে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে এলে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ওই লোকগুলো সরকারের কোনো ভালো ও উন্নয়নমূলক কাজ দেখেন না, বরং তাঁরা সারা বাংলাদেশে সব সময় শুধু সমস্যাই খুঁজে পান।
এই ঘৃণ্য অপপ্রচার মোকাবেলায় ডিজিটাল ও সামাজিক প্ল্যাটফরমের মাধ্যমে সক্রিয় হওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়ে শেখ হাসিনা নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সদস্যরা যেন দেশের মানুষের কাছে সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের প্রচার চালায়।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার জন্য আপনাদের সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
সরকার ও দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সমালোচকদের সারা বাংলাদেশ ঘুরে দেখার অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রামীণ বাংলাদেশে কোনো অভিযোগ নেই। আমি দাবি করতে পারি যে বাংলাদেশের গ্রামীণ জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নীত হয়েছে এবং আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে, আমরা তাদের উন্নত জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় অবশিষ্ট সব কাজ করব।
আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে বাংলাদেশে দারিদ্র্য ৪১ শতাংশ থেকে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, চরম দারিদ্র্য মাত্র ৫ শতাংশে নেমে এসেছে এবং বেকারত্বের হার এখন মাত্র ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০৮ সালে নির্বাচনে জয়লাভ করে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে স্থিতিশীল গণতন্ত্র বজায় রয়েছে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কারণেই আজ দেশ এই অভূতপূর্ব উন্নয়ন প্রত্যক্ষ করছে। দেশের অভ্যন্তরে আগুন সন্ত্রাসের মতো স্থানীয় ও বৈশ্বিক উভয় সমস্যা কাটিয়ে, আমরা এখন দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় মেয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার বাবা দেশের স্বাধীনতা এনেছেন এবং এই স্বাধীনতাকে ব্যর্থ করা যাবে না। এই স্বাধীনতার সুফল দেশের সব মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। আর এ জন্যই আমার সংগ্রাম।’
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনও বক্তব্য দেন। লন্ডনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
আজ দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী
কূটনৈতিক প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে ১৬ দিনের সরকারি সফর শেষে আজ বুধবার ঢাকায় ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে (বিজি-২০৮) গতকাল মঙ্গলবার রাতে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান। ফ্লাইটটি আজ বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী গত ৩০ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি থেকে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি বিমানযোগে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে পৌঁছান। সেখানে গত সোমবার শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশ সম্প্রদায় সংবর্ধনা দেয়। যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ বিষয়ক সর্বদলীয় সংসদীয় গ্রুপের একটি প্রতিনিধিদলসহ বিশিষ্টজনরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
গত ১৭ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্ক ও ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী ৭৮তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এবং অন্যান্য উচ্চ পর্যায়ের পক্ষ ও দ্বিপক্ষীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেন।


Comments
Post a Comment